শালিকের বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলবে না

নিউজ ডেস্ক

৪১১

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১৬ মে ২০২০   আপডেট: ২৩:৩৩, ১৬ মে ২০২০

শেয়ার করুন:-
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রায় দুই মাস ধরে করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ আছে রেল চলাচল। ফলে রেলের ইঞ্জিনগুলো পড়ে আছে বিভিন্ন লোকশেডে। তেমনি রেলওয়ের ৬৫ সিরিজের ০৭ নম্বর ইঞ্জিনিটি রাখা ছিল পার্বতীপুর লোকশেডে।দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে বাসা বাঁধে এক জোড়া শালিক। এছাড়াও শালিকের ডিম থেকে দুটি বাচ্চাও জন্ম নেয়।

বৃহস্পতিবার পার্বতীপুরে পঞ্চগড় অভিমুখী পণ্যবাহী পার্সেল স্পেশাল ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন করার সময় ওই ইঞ্জিনটিকে বাছাই করে চালু করার চেষ্টা করা হলে কর্মকর্তাদের চোখ যায় ইঞ্জিনের মধ্যে একটি ফাঁকা জায়গায়। যেখানে মা শালিক তার ছানাগুলোকে বুকের মধ্যে আগলে বসে আছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে উড়ে যায় মা শালিক।

ইঞ্জিন চালু করা হলে পাখির ছানা দুটি মারা যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বিষয়টি জানানো হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। পরবর্তীতে পার্বতীপুর লোকশেডের ইনচার্জ ছানাগুলো উড়তে শেখা না পর্যন্ত এ ইঞ্জিন চালানো কিংবা কোনো প্রকার মেরামত না করার নির্দেশনা দেন। পরে অন্য একটি ইঞ্জিন দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয় ট্রেনটিকে।

এ প্রসঙ্গে পার্বতীপুর লোকশেডের ইনচার্জ কাফিউল ইসলাম বলেন, কচি পাখির ছানাগুলোর কিচির মিচির আর্তনাদ তার হৃদয়ে আঘাত করে, তারা হয়ত বাঁচার জন্যই কান্নাকাটি করছিল তাই তাদের প্রতি মায়া থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ছানারা বড় হয়ে মুক্ত আকাশে নিরাপদে ডালা মেলবে সেই প্রত্যাশা এই রেল কর্মকর্তার।

বর্তমানে ছানাগুলোর যত্ন নিচ্ছেন তিনি। ছানাগুলোর যাতে কোন সমস্যা না হয় সব সময় খেয়াল রাখছেন কাফিউল। বাচ্চাগুলো যেন কোনো হিংস্রপ্রাণীর শিকার না হয় তাই ইঞ্জিনটিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:-
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত