সন্দ্বীপের আলো: রেদওয়ানুল বারী

ফিচার ডেস্ক  

৩৭১

প্রকাশিত: ১৩:২৬, ১২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১২:৪৭, ৩০ জুলাই ২০২০

শেয়ার করুন:-
রেদওয়ানুল বারী

রেদওয়ানুল বারী

দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ। রত্নগর্ভা হিসেবেই যার বহুল পরিচিতি। এর আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন অনেক কীর্তিমান। যাঁদের অনেকেই এখন দেশে-বিদেশে আলো ছড়াচ্ছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এঁদের অনেকেই নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত। আবার অনেকেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রেখে গেছেন আলোটুকু। 

সেই আলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইকরা নিউজ২৪.কম’ আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। ইকরা নিউজ চায়, স্বরণের মনিকোঠায় আপনিও অম্লান থাকুন।  

( ক্লিক করে পেজটিতে লাইক দিন। ভালোর সঙ্গে থাকুন। অন্যকেও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করুন।)

সন্দ্বীপের আলো (২)

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের অন্যতম কৃতী সন্তান রেদওয়ানুল বারী ১৯২০ সালে হারামিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সাজেদুল হক। তিনি ছিলেন কো অপারেটিভ ইন্সপেক্টর। দাদা মোখলেসুর রহমান ছিলেন হারামিয়া ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। 

মি. রেদওয়ানুল বারীর (বিএসসি) প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মুছাপুর এম এ স্কুলে (খন্তারহাট), ১৯২৯ সালে। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি নোয়াখালী জেলার রায়পুর জজ করোনেশন হাই স্কুলে ৭ম শ্রেণি, সন্দ্বীপ কার্গিল হাই স্কুলে ৮ম শ্রেণি এবং লক্ষ্মীপুর হাই স্কুলে ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে পড়ে ১৯৩৯ সালে নোয়াখালী জেলা সদর স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন। 

চটগ্রাম গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৪ সালে সেখান থেকে বিএসসি পাস করেন। 

(কখনো ভেবে দেখেছেন- কে আমি? আমার কি করা উচিত আর কি করছি? প্রতিদিন একবার ভাবুন-জীবন বদলে যাবে। পড়ুন: বদলে যান )

১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা রিপন কলেজে আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ওই সময় তার সাথে একত্রে এইক বিষয়ে পড়াশোনা করেন সন্দ্বীপের প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেন। 

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম জর্জকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। রেদওয়ানুল বারী (বিএসসি)১৯৪৮ সালে একটি অবাঙালি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে কোম্পানির দায়িত্ব সরকারকে বুঝিয়ে দেন। 

এলাহী বক্স অ্যান্ড কোম্পানির দেয়া তার উত্তর নাখালপাড়ার বাসাটি ছিল প্রবাসী সন্দ্বীপীদের মিলনক্ষেত্র। সন্দ্বীপের লোকজন চট্টগ্রাম এলে ওখানে উঠতেন অথবা সন্দ্বীপে যাওয়ার আগের রাতটা তার বাসাতেই কাটাতেন। সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ও সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটির অস্থায়ী অফিস হিসেবে ওই বাসাটি কয়েক বছর ব্যবহৃত হয়। 

মি. বারী (বিএসসি) ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ সমাজকর্মী। তিনি সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন, কলকাতা, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা এবং সন্দ্বীপ এডুকেশন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। 

(পড়ুনঃ  সাফল্যের পথে প্রতিদিন কোরআনের ৫ আয়াত )

সন্দ্বীপ থানা আওয়ামী লীগের তিনি প্রথম আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা দফতর সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিটি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সমপাদক ও চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী মুসলিম লীগের দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মি. রেদওয়ানুল বারী (বিএসসি) সাউথ সন্দ্বীপ হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও দাতা ছিলেন। মরহুম অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেনও কিছুদিন ওই স্কুলে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। তিনি সন্দ্বীপ এতিমখানার অন্যতম উদ্যোক্তা; দক্ষিণ সন্দ্বীপ শিবেরহাট পোস্ট অফিস ও দক্ষিণ সন্দ্বীপ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। 

তিনি বাদুরা ভিকটিম রিলিফ কমিটির সেক্রেটারি, অফশোর ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সন্দ্বীপের অন্যতম সদস্য, চট্টগ্রাম অন্ধকল্যাণ সমিতির (চক্ষু হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মরহুম মাওলানা ওয়াজিউল্লাহ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভপতি, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ও সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব্ পালন করেন। 

এছাড়া তিনি সারা জীবন রাজনৈতিক ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে সন্দ্বীপ ও সন্দ্বীপবাসীর স্বার্থে কাজ করে গেছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে তাকে সম্মাননা দেয়া হয়। সম্মাননা ক্রেস্ট তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। (তথ্যসূত্র: সন্দ্বীপে শত ব্যক্তিত্ব)

দৃষ্টি আকর্ষণ:

কারো সংগ্রহে যদি মি. রেদওয়ানুল বারীর ভালো ছবি থাকে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করুন। সংগৃহীত তথ্যে ঘাটতি থাকলে নিচে দেয়া মেইলে বিস্তারিত লিখে জানান। 

সন্দ্বীপের বিশেষ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আপনিও লিখতে পারেন। যাঁকে নিয়ে লিখবেন তাঁর ভালো কিছু ছবি দিবেন; সাথে লেখকের ছবি, ঠিকানাসহ দিবেন। লেখা এবং ছবি পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]  

(ভালোর সাথে থাকুন, ইকরা নিউজ পড়ুন) 

শেয়ার করুন:-